শিরোনাম
স্টাফ রিপোর্টার : | ০৫:৫৭ পিএম, ২০২৬-০৬-০৯
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় নির্মাণাধীন ধনেশ পাখি চত্বরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ১২ লাখ টাকার এই প্রকল্পটি জেলা পরিষদ রেস্ট হাউজ সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণ হওয়ায় এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রতীকী ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়, চৌরাস্তা কিংবা জনবহুল এলাকায় নির্মাণ করা হয়, যাতে সেটি এলাকার পরিচিতি, ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। সে বিবেচনায় আলীকদম বাজার, বাস টার্মিনাল, চৌমুহনী মোড় কিংবা পানবাজারের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে ধনেশ পাখির ভাস্কর্য নির্মাণ করা হলে এটি অধিক দৃশ্যমান ও আকর্ষণীয় হতো।
তাদের অভিযোগ, বর্তমানে যে স্থানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সেটি মূলত একটি প্রাচীরঘেরা এলাকা এবং জেলা পরিষদ রেস্ট হাউজের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের অংশ। ফলে জনসাধারণের সরাসরি দৃষ্টিগোচর হওয়ার সুযোগ সীমিত থাকবে। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত একটি নান্দনিক প্রকল্প তার কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য পূরণে কতটুকু সক্ষম হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকলে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে প্রকল্পটির বাস্তবতা তুলে ধরেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে “আলীকদম উপজেলার ক্যান্টিন মোড় এলাকায় দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মাণ” শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ক্যান্টিন মোড়ের তিন রাস্তার সংযোগস্থলে ভাস্কর্যটি নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তবে পরবর্তীতে প্রকৌশলী দলের পরিদর্শনে জানা যায়, উক্ত স্থানটি নিয়ে আলীকদম সেনা জোনের পৃথক পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সড়কটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন হওয়ায় প্রয়োজনীয় অনুমোদনও পাওয়া সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে চৌমুহনী মোড় ও বাসস্টেশন এলাকাকে বিকল্প স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হলেও জায়গার সংকট ও ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেসব স্থানেও প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। পরে পানবাজার-কলারঝিরি তিন রাস্তার মোড়কে উপযুক্ত স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও আশপাশের জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন হওয়ায় প্রয়োজনীয় সম্মতি পাওয়া যায়নি।
জেলা পরিষদ সদস্যের ভাষ্যমতে, একের পর এক প্রতিবন্ধকতার কারণে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় প্রকল্প বাতিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্পটির গুরুত্ব বিবেচনায় আলীকদম-থানচি সড়ক সংলগ্ন জেলা পরিষদ রেস্ট হাউজের গেটের পাশের স্থানকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়।
তবে এ ব্যাখ্যার পরও জনমনে প্রশ্ন থেকেই গেছে। স্থানীয়দের মতে, একটি দৃষ্টিনন্দন চত্বরের মূল উদ্দেশ্য হলো জনসাধারণের নজরে আসা, পর্যটকদের আকৃষ্ট করা এবং এলাকার ব্র্যান্ডিংয়ে ভূমিকা রাখা। সেক্ষেত্রে জনবিচ্ছিন্ন বা সীমিত দৃশ্যমানতার স্থানে এমন একটি প্রকল্প নির্মাণ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
সচেতন মহলের অভিমত, সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ জনকল্যাণমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, দৃশ্যমানতা, পর্যটন সম্ভাবনা এবং জনস্বার্থকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অন্যথায় উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
বর্তমানে নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত আলীকদমের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কতটা ভূমিকা রাখবে, নাকি এটি সরকারি অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited